দিল্লির দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত খুচরা বিক্রি ও নির্মাণ খাত

নয়াদিল্লি সম্প্রতি কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ বায়ুদূষণ দেখেছে। এতে ক্ষতির শিকার হয়েছে খুচরা বিক্রেতা, রেস্টুরেন্ট পরিচালনাকারী ও নির্মাণ কোম্পানিগুলো।

নয়াদিল্লি সম্প্রতি কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ বায়ুদূষণ দেখেছে। এতে ক্ষতির শিকার হয়েছে খুচরা বিক্রেতা, রেস্টুরেন্ট পরিচালনাকারী ও নির্মাণ কোম্পানিগুলো। মূলত বিপজ্জনক বায়ু ও সংশ্লিষ্ট নির্মাণ নিষেধাজ্ঞা ঘিরে এসব খাতে চাহিদা কমেছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

আরমানি বিউটি ও এস্টি লাউডারের মতো ব্র্যান্ডের জন্য পরিচিত ডিপার্টমেন্ট স্টোর পরিচালনাকারী শপার্স স্টপ জানিয়েছে, উত্তর ভারতের উচ্চ দূষণ মাত্রার কারণে ভোক্তা চলাচল ও প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় কমেছে। যার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক চাহিদায়।

বাজেট সুপারমার্কেট চেইন বিশাল মেগা মার্ট বলছে, গত বছর সরকার ভোক্তাদের জন্য কর সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু উত্তর ভারতের বায়ু মানের সমস্যাসহ কয়েকটি কারণে সে সুবিধা পুরোপুরি নিতে পারেনি কোম্পানি।

উত্তর ভারতে দূষণের শীর্ষ সময় থাকে নভেম্বর-জানুয়ারি। এ সময় রাজধানীর গড় বায়ুমান প্রায় ৭৮ শতাংশ দিনে ‘খুব খারাপ’ বা ‘গুরুতর’ থাকে। আইকিউএয়ারের ২০২৪ সালের র‌্যাংকিং অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ৫০টি দূষিত শহরের মধ্যে ৩৫টি ভারতেই অবস্থিত। এর বেশির ভাগই ভারতের উত্তরাঞ্চলে।

দিল্লিভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠন চেম্বার অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিটিআই) চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গয়াল বলেন, ‘দিল্লিতে সাধারণত দিনে তিন-চার লাখ মানুষ কেনাকাটার জন্য আসে। কিন্তু বায়ুদূষণের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে তা গড়ে এক লাখে নেমে গিয়েছিল। স্থানীয় ব্যবসায় এ ক্ষতির আকার প্রায় আড়াই হাজার কোটি রুপি (২৭ কোটি ২০ লাখ ডলার)।’

দেশটির ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোরাওয়ার কালরা বলেন, ‘আমাদের কিছু ওপেন-এয়ার রেস্টুরেন্ট দূষণের কারণে সমস্যায় পড়েছে।’

দূষণ প্রতি বছর ভারতীয় ব্যবসার প্রায় ৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ক্ষতি করে। ২০২১ সালে ডাবার্গ অ্যাডভাইজারস ও ক্লিন এয়ার ফান্ডের প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে বলেছিলেন, দূষণ এবং ভারতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব যেকোনো শুল্কের তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর।

উত্তর ভারতে সারা বছরই বায়ুদূষণের সমস্যা থাকে। বিশেষ করে নভেম্বর-ডিসেম্বরে দিল্লিতে বায়ুমান শোচনীয় অবস্থায় পৌঁছে। কারণ হিসেবে যানবাহন ও শিল্প-কারখানায় উৎপাদিত ধোঁয়া, নির্মাণ প্রকল্পের ধুলো এবং পরবর্তী ফসলের জন্য জমি প্রস্তুত করতে কৃষকদের খড় জ্বালানোকে দায়ী করা হয়। বায়ুমানের সমস্যার কারণে স্থানীয় সরকার গত মাসে কয়েক দিনের জন্য সর্বোচ্চ জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছিল। ওই সময় সব অপ্রয়োজনীয় নির্মাণ এবং ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ ছিল।

আরও